ছাত্র হিযবুল্লাহ কি ও কেন?

1
64
শেয়ার করুন

“যারা আল্লাহতাআলা ও তাঁর রসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তারাই আল্লাহতাআলার দল এবং তারাই বিজয়ী।”

আমরা ছাত্র, ইলমে দ্বীনের ধারক-বাহক, ওরাছাতুল আম্বিয়া তথা নায়েবে নবী। নিজেকে আদর্শ মানব হিসেবে গড়ে তোলার, সমাজকে কিছু দেবার উপযুক্ত হিসেবে তৈরী হবার সঠিক সময় এখনই। কিন্তু সেই আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে নিজেকে যোগ্য করে তোলার পদ্ধতিটা কী? কোনরূপ ভিন্নতা ছাড়া সহজ-সরল উত্তর হচ্ছে আদর্শ সংগঠন। কারণ, আদর্শ সংগঠনই পারে একজন আদর্শ নাগরিক উপহার দিতে, একজন যোগ্য ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে। তাই প্রথমেই আমাদেরকে যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে একটি আদর্শ সংগঠন নির্ণয় করা।
কোন সন্দেহ নেই, সেই আদর্শ ছাত্র সংগঠনটির নাম হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ। তার প্রমাণ আমি আমার এ ছোট্ট নিবন্ধের পরতে পরতে উপস্থাপন করার প্রয়াস পাব ইনশা-আল্লাহ।
ছাত্র হিযবুল্লাহ কী :
ছোট দুটি শব্দের একটি বিরাট আদর্শের নাম “ছাত্র হিযবুল্লাহ”। বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ একটি আদর্শ সংগঠন, আদর্শ মানুষ তৈরীর কারখানা। সিদ্দিকীন, শোহাদা, সালেহীনের অনুসৃত পথ যাদের জীবনের রাজপথ, আদর্শের মূর্তপ্রতীক নবীজী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাদের একমাত্র মাইলফলক, কোরআন ও সুন্নাত যাদের ভূষণ, সেই অপরাজেয় কাফেলার নাম বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ।
পঞ্চাশ দশকের ঊষালগ্নে বাংলার পথভোলা, আদর্শহারা ছাত্র সমাজকে ইলমে-আমলে, আদাবে-আখলাকে প্রকৃত আদর্শের ফল্গুধারা তথা সুন্নতে নববীর পূর্ণ মুজাসসাম নমুনায় গড়ে তোলার জন্যে বানীয়ে ছারছীনা হযরত শাহ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.) এ সংগঠনের গোড়া পত্তন করেন। সেই প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আজ অবধি জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার ছাত্র সমাজকে দীনের সঠিক আদর্শে, নবীজী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যোগ্য ওয়ারেছ রূপে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ অবিরামভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্দেশ্যবিহীন কোন প্রচেষ্টাই সফল হয় না। লক্ষ্য ছাড়া কোন বাহনও গন্তব্যে পৌঁছেনা। তদ্রƒপ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ ছাড়া কোন সংগঠন হয় না। বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ যেহেতু একটি আদর্শ সংগঠন তাই তারও একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য আছে। সৃষ্টিকূলের মুক্তিদূত রহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শে ছিদ্দিকীন, শোহাদা ও সালেহীনের অনুসৃত পথে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশ গঠনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করাই এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকেই অনুভূত হয় যে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ আর সব সংগঠন থেকে ভিন্ন। বাংলাদেশে অন্যান্য আরো ইসলাম নামধারী ছাত্র সংগঠন আছে। তাদের কেউ হয়ত ক্ষমতার মাধ্যমে দীন কায়েম করার নামে ক্ষমতা দখলে ব্যস্ত। ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নবীজীর আদর্শ বা দীন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন তারা অনুভব করে না। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীন প্রতিষ্ঠার পূর্বে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সুন্নতের অনুশীলনের প্রয়োজন মনে করে না। আবার কেউ ব্যক্তি কেন্দ্রিক দাওয়াতী মেহনত নিয়েই ব্যস্ত। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অন্যায়, অসত্য মূলোৎপাটনে তাদের কোন কর্মসূচী নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজীর আদর্শে আদর্শবান হওয়া। ইলমে-আমলে, লেবাসে- পোষাকে, চেহারা-সুরাতে, আদবে-আখলাকে মোটকথা সকল ক্ষেত্রে। কারণ কোরআন পাকের ঘোষণাঃ
لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة
“নিশ্চয় তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসুলের মধ্যে সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।”
আবার অন্যান্য সংগঠন যেখানে সিদ্দীকীন, শোহাদা, সালেহীনকে উপেক্ষা করে চলে, সেখানে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ তাদেরই নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে চলে। কারণ হাদীসে কুদসীর গুরুগম্ভীর ঘোষণাঃ
من عادى لى وليا فقد اذنته بالحرب
“যে আমার ওলীর সাথে শত্র“তা পোষণ করে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দেই।” (বুখারী শরীফ)
আরেকটি লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, অন্যান্য সংগঠনের কর্মসূচী বা আন্দোলনের ধারা কোরআন-সুন্নাহর ধারার বিপরীত। অন্যান্য সংগঠনের শ্লোগান হচ্ছে- “আগে রাষ্ট্র দখল করো, এরপর সমাজ, পরিবার ঠিক করা যাবে, কিন্তু কোরআন পাকের ঘোষণা হচ্ছেঃ
ياايها الذين امنوا قوا انفسكم واهليكم نارا
“হে মু’মিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং পরিবার পরিজনকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করো।”
সুতরাং পবিত্র কোরআনের ধারাক্রম হচ্ছে, আগে ব্যক্তি জীবন, তারপর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ইত্যাদি। বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ এই ধারাক্রমই মেনে চলে।
যে কোন সংগঠনের মূলনীতি সমূহ সে সংগঠনের জন্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ মূলনীতি অনুসারেই সে সংগঠনের কর্মী গড়ে উঠবে। যেমনঃ কোন সংগঠনের মূলনীতি যদি হয় রসুলের সুন্নাতকে উপেক্ষা করা, কটাক্ষ করা, তবে দেখা যাবে তার কর্মীবৃন্দ দাড়ি কাটে-ছাটে, প্যাণ্ট-শার্ট পরে, সুন্নাত-মুস্তাহাবের কোন তোয়াক্কা করে না। যেন “দীন প্রতিষ্ঠার কর্মী” নামে কোন আজব জন্তু। কিন্তু এটা কোন আদর্শ সংগঠনের যথার্থ মূলনীতি হতে পারে না।
পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর মূলনীতিগুলো একটু বিবেচনা করুন।
সপ্ত মূলনীতির আলোকে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর কর্মীবৃন্দ গড়ে ওঠে। সপ্ত মূলনীতি হলোঃ (১) লিল্লাহিয়াত তথা আল্লাহ ভিত্তিক জীবন যাপন করা যেহেতু আল্লাহ পাকের ঘোষণা :
وما امروا الا ليعبدوا الله مخلصين له الدين
“তাদেরকে শুধুমাত্র একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
(২) একামাতে দীন তথা জীবনের প্রতিটি ভাগ (ব্যক্তিজীবন হতে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত) ইসলামী বিধান অনুযায়ী গড়ে তোলা। একামতে দ্বীনের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবনকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। (ক) ব্যক্তি জীবনে দীন কায়েম (খ) সমাজ জীবনে দীন কায়েম (গ) রাষ্ট্র জীবনে দীন কায়েম করা।
এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, কিছু ইসলামী নামধারী ছাত্র সংগঠন আছে যারা দীন প্রতিষ্ঠা বলতে শুধু তৃতীয় প্রকারটিকে মনে করে। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারকে তারা এক প্রকার উপেক্ষাই করে চলে। তারা ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে দীন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এবং তাদের কার্যক্রমও ক্ষমতা দখলকে ঘিরেই হচ্ছে। ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে শরিআত বিরোধী অনেক কাজ করতেও তাদের দ্বিধা বোধ হয় না। প্রমাণ স্বরূপ তারা মহান আল্লাহর বাণীঃ ان اقيموا الدين (তোমরা দীন প্রতিষ্ঠা কর) কে উপস্থাপন করে। কিন্তু তারা বুঝতে চেষ্টা করে না যে, তাদের এসব যুক্তি ও দাবী যদি সঠিকই হত তবে আল্লাহ পাক (ان اقيموا الدين) “তোমরা দীন প্রতিষ্ঠা কর” না বলে (ان اقيموا الملك) “তোমরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কর” বলতেন।
অথচ الدين শব্দের ব্যাখ্যা হাদীসে জিব্রাঈলের মধ্যে স্পষ্ট বিধৃত হয়েছে। নবীজী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিব্রাইল (আ.) কর্তৃক ইসলাম ঈমান ও ইহসান (যা ইলমে তাসাউফের মূল ভিত্তি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার পর হযরত ওমর (রা.) কে লক্ষ্য করে বলেনঃ
هذا جبريل اتاكم يعلمكم دينكم
“ইনি হলেন জিব্রাইল (আ.)। তিনি তোমাদেরকে দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।” সুতরাং প্রমাণিত হলো- ক্ষমতা দখলই দীন কায়েম নয় বরং ব্যক্তিজীবন সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের সমন্বয়ই প্রকৃত দীন কায়েম।
আর সর্বোপরি কথা হচ্ছে, যারা ব্যক্তি জীবনে ও সমাজ জীবনে দীন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তাদের রাষ্ট্রজীবনে দীন প্রতিষ্ঠা করতে যাওয়াটা রীতিমত হাস্যকর। আর এটা চরম নিন্দনীয়ও বটে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনঃ
كبر مقتا عند الله ان تقولوا ما لا تفعلون
তোমরা যা বল বা প্রচার কর তা তোমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিষ্ঠা না করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ক্রোধের কারণ। (সূরায়ে সাফ্ -৩)
(৩) তাহসীলে ইলমে দীন তথা ইসলামী জীবন যাপনের নিমিত্তে ইলমে শরিআত ও ইলমে মারেফাত অর্জন করা। যেহেতু হাদীসে পাকের মধ্যে এরশাদ হচ্ছে, যা হযরত হাসান বছরী (র.) হতে বর্ণিতঃ
عن الحسن قال العلم علمان علم فى القلب فذالك العلم النافع وعلم على اللسان فذالك حجة الله عزوجل على بن ادم
হযরত হাসান (রা.) থেকে বর্ণিত ইলম দুই প্রকার, কলবের ইলম, ইহা হলো একমাত্র উপকারী বিদ্যা, অপরটি হলো জীবনী ইলম। উহা হলো আদম সন্তানের উপর আল্লাহ তায়ালার প্রমাণ। (মেশকাতঃ ৩৭)
(৪) ছোহবতে সালেহীন। তথা আমলী জিন্দেগী গঠন করতে ছালেহীনের ছোহবত গ্রহণ করা।
কেননা এটা আল্লাহ পাকের নির্দেশ, যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ
(১) ا تبع سبيل مناناب الى

“যে আমার প্রতি ধাবিত হয়েছে তার অনুগত হও।”
(২) يايها الذين امنوا اتقوا الله وكونوا مع الصدقين
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহভীতি অবলম্বন কর এবং নেককার লোকদের সঙ্গলাভ কর।”
(৫) তাবলীগে দীন তথা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করা।
(৬) জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ তথা দীন প্রতিষ্ঠা ও প্রচারের নিমিত্তে উপর্যুপরি প্রচেষ্টা করা এবং
(৭) ই’তেছাম বি হাবলিল্লাহ। তথা দ্বীনের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ জীবন যাপন করা।
এ কারণে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর কোন কর্মীকে দেখলে মনে হয়, খাঁটি নায়েবে নবী, আল্লাহ ওয়ালা, দীন প্রতিষ্ঠার প্রকৃত ও আদর্শ কর্মী।
কোন সংগঠনের মূলনীতির পাশাপাশি পথ প্রদর্শক নীতি বা কর্মনীতির গুরুত্বও কিন্তু কম নয়। বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর পথ প্রদর্শক নীতি কত সুন্দর ও বাস্তব সম্মত দেখুনঃ
পঞ্চ পথ প্রদর্শক নীতি বা পাঁচটি কর্মনীতি নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর পথ চলা নিয়ন্ত্রিত হয়।

তাহলোঃ
(১) সিরাতে মুস্তাকিমের অনুসরণ তথা সকল ক্ষেত্রে চরম পন্থা বা শিথিল পন্থাকে পরিত্যাগ করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নীতিকে অনুসরণ করতে হবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নীতি বা পথ তথা সিরাতুল মুস্তাকিমের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ পাক বলেনঃ
اهدنا الصراط المستقيم – صراط الذين انعمت عليهم
“আমাদের সরল-সঠিক পথের দিশা দিন। তাদের পথ যাদের উপর আপনি নিয়ামত বর্ষণ করেছেন।” সিরাতুল মুস্তাকীমের পূর্ণ ব্যাখ্যা আল্লাহ পাক অন্য আয়াতে প্রদান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
انعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن اولئك رفيقا
“আল্লাহ পাক নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎকর্মশীলগণের উপর নিয়ামত বর্ষণ করেছেন। আর তাদের সংসর্গ কতইনা উত্তম।”
(২) আখেরাতের উদ্দেশ্য তথা দুনিয়াবী স্বার্থের উপর আখেরাতের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
(৩) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভূক্তি তথা চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করতে হবে।
(৪) ইত্তেহাদুল মিল্লাহ বা সার্বজনীন মুসলিম ঐক্যের লক্ষ্যে দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে ইসলাহে হুকুমাতের প্রচেষ্টা করতে হবে। তবে কোনরূপ বাতিল আকিদা বা বাতিল দলগুলোকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
(৫) নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন
এক্ষণে হয়ত আপনি প্রশ্ন করবেন যে, বুঝলাম বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ আদর্শ সংগঠন, তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভাল, মূলনীতি সুন্দর, পথপ্রদর্শক নীতি চমৎকার; কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর একটি কর্মসূচীটা কী? আমি বলব হ্যাঁ, বাস্তব কার্যক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর বাস্তব সম্মত, সুশৃঙ্খল, সুন্দর কর্মসূচী আছে। বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর ৪টি কর্মসূচী। তাহলোঃ (১) দাওয়াতঃ যেহেতু এটি ছাত্র সংগঠন তাই ছাত্র সমাজের কাছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে ইসলামের সঠিক দাওযাত পৌঁছে দিয়ে তাদেরকে ইসলামী জ্ঞানার্জন ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা এ সংগঠনের প্রথম কর্মসূচী। উল্লেখ্য, ছাত্র হিযবুল্লাহ একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে কখনোই এমন দাওয়াত দিবে না যা ছাত্র জীবনের মূল কর্তব্য পড়াশুনা হতে কাউকে বিমুখ করবে বরং ছাত্র হিযবুল্লাহ আদর্শ ছাত্র উপহার দিয়ে থাকে। (২) জমইয়াতঃ একা একা তো বড় কিছু করা যায় না, বড় কিছু করতে হলে সংঘবদ্ধ হতে হয়। আর এটাই ছাত্র হিযবুল্লাহর দ্বিতীয় কর্মসূচী। যে সব ছাত্র ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার ও প্রতিষ্ঠা করার কাজে অংশ নিতে প্রস্তুত তাদেরকে সংঘবদ্ধ করা। (৩) তা’লীমঃ শুধু সংঘবদ্ধ হলেই খেদমাত করা যায় না। তার জন্যে প্রয়োজন জ্ঞান। আর তাই সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী বাস্তবায়নে ঐ সংঘবদ্ধ ছাত্রবৃন্দকে প্রকৃত মুসলমান হতে ও ইসলাম বিরোধী সকল মতাদর্শ এবং বাতিল ফিরকা সমূহের খপ্পর থেকে রক্ষা করার নিমিত্তে যথার্থ প্রশিক্ষণ বা তা’লীমের ব্যবস্থা করা ছাত্র হিযবুল্লাহর তৃতীয় কর্মসূচী। (৪) খেদমতঃ যেহেতু আমাদের সংগঠন ছাত্র সংগঠন। তাই খেদমত বলতে ছাত্র সমস্যার সমাধানে আত্মনিয়োগ করা বুঝায়। ছাত্র সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি হতে মুক্তির জন্যে নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা করা ছাত্র হিযবুল্লাহর চতুর্থ কর্মসূচী।
কেন এ সংগঠন?
হযরত নেছার উদ্দিন আহমদ (র.) বলেন, “আমি নালায়েককে ফুরফুরা শরীফ থেকে দু’টি দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে ১। তা’লীম ২। তানজীম। তা’লীমের জন্যে প্রতিষ্ঠা করেছি মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ইত্যাদি আর তানজীমের জন্যে প্রতিষ্ঠা করেছি জমইয়াতে হিযবুল্লাহ এবং এরই অংগ সংগঠন ছাত্র হিযবুল্লাহ।”
অর্থাৎ, হযরত নেছারুদ্দীন আহমদ (র.) তানজীমের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শুধু জমইয়াতে হিযবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষ্যান্ত হননি বরং এর অঙ্গ সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন।
কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, ছাত্ররাই দেশের ভাবী কাণ্ডারী, অনাগত ভবিষ্যতের দিশারী, তাই জমইয়াতে হিযবুল্লাহর পথ ধরে ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ”।
যেহেতু আদর্শ-বিচ্যুত সমাজকে আদর্শের শিক্ষা দিতে এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, তাই এ সংগঠন আদর্শের সংগঠন। এ সংগঠন আদর্শবান হওয়ার সংগঠন। এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা যেহেতু হযরত নেছার উদ্দীন আহমদ (র.), তাই এ সংগঠন আল্লাহর ওলীগণের সংগঠন। এ সংগঠন আল্লাহর ওলী হওয়ার সংগঠন। বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও তাই একারণেই।
বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ করব কেন?
আগেই বলেছি, আমরা ছাত্র। আর ছাত্রদের ব্যাপারে আল-কোরআনের নির্দেশনা হচ্ছে-
كونوا ربانيين بما كنتم تعلمون الكتاب وبما كنتم تدرسون (الاية) (ال عمران: ৭৯)
“তোমরা কিতাব শিক্ষাদান ও শিক্ষাকরণ হেতু আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও।” (আলে-ইমরানঃ৭৯)
বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ এই কাজটিই করে যাচ্ছে। অর্থাৎ ছাত্রদেরকে আল্লাহওয়ালা হওয়ার পথ দেখায় বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ। কেননা বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর “লক্ষ্য-উদ্দেশ্য” এর একটি অংশই হচ্ছেঃ সিদ্দীকীন, শোহাদা, ছালেহীনের অনুসৃত পথে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশ গঠনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন।
সুতরাং ছাত্রদের ব্যাপারে আল্লাহ পাকের নির্দেশনা মানতে গিয়ে অবশ্যই আমাদেরকে অন্যান্য সংগঠনের উপরে বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহকে প্রাধান্য দিতে হবে। আশ্রয় নিতে হবে এর ছায়াতলে। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে কবুল করুন। আমীন!

3184total visits,71visits today

1 COMMENT